অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করেই সারা বছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
বর্তমানে সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সীমিত সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি পুরো বছর ধরে উন্মুক্ত থাকবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে।”
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর অতিরিক্ত দুই শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে না। এছাড়া, সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা রিবেট সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া দ্রুত রিটার্ন দাখিলকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে কর আদায়ের লক্ষ্য অতীত বছরের তুলনায় বেশি পূরণ হবে। তবে কর অব্যাহতি সম্প্রতি অনেক বেশি হওয়ায় রাজস্ব আয় কমছে। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর অব্যাহতি কমানোর প্রস্তাব থাকবে।
করের হার বৃদ্ধি না করে কর আওতা বাড়ানোর দিকেও সরকার মনোনিবেশ করবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “ট্যাক্স লিকেজ বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে সৎ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম বেগবান করে কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, করদাতারা বছরের যেকোনো সময়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারলেও, সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে তারা কর সুবিধা ও দ্রুত সেবা প্রাপ্তির সুযোগ পাবেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কর সাশ্রয় এবং রাজস্ব সংগ্রহ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও, এনবিআর অনলাইন সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নাগরিক বান্ধব করার পরিকল্পনা করছে, যাতে করদাতারা কম সময়ে এবং ঝামেলাহীনভাবে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারেন। সরকারের এই উদ্যোগ কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


