রাজনীতি ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ায় সরকার সাশ্রয়ী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় মজুদ পরিস্থিতি সামলাতে কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তাহে ছুটির দিন বাড়ানো হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করার মাধ্যমে সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
একই সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও আলোচনার বিষয় হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় continuity বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে আসার কারণে দেশীয় বাজারে জ্বালানি মজুদ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে চাপ বেড়েছে। সরকারের পরিকল্পিত সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো মূলত এই চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি ছুটি বৃদ্ধি ও অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগগুলো অস্থায়ী হলেও বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে। এছাড়া এই পদক্ষেপগুলো দেশের জ্বালানি সংরক্ষণে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি করবে এবং খাতভিত্তিক খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সভার সিদ্ধান্তের পরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রণীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করবে। এর মধ্যে সরকারি ছুটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস পরিচালনার সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দ্রুত জানানো হবে।
এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বিভিন্ন জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পরিকল্পিত সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং জরুরি অবস্থায় পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা সরকারের মূল উদ্দেশ্য।


