আইন আদালত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার বা তার নিয়োজিত কোনো সংস্থার কাছ থেকে প্রসিকিউশন কোনো চিঠি পাননি। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচার চলাকালীন সময় পলাতক থাকা অবস্থায় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নেই। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।
এর আগে, লন্ডনভিত্তিক আইনি সেবা প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় বাতিলের জন্য ট্রাইব্যুনালের ই-মেইলে চিঠি পাঠানোর দাবি করে। এই তথ্য প্রকাশিত হলে প্রসিকিউশন জানায়, তারা এমন কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি।
শেখ হাসিনা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পলাতক আসামির পক্ষ থেকে সরাসরি আদালতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ বিবেচিত হবে। এই রায় এবং প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলাতক আসামি ও তার পক্ষের মাধ্যমে আদালতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা, বিশেষত ই-মেইল বা চিঠির মাধ্যমে, বিচার ব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, এই মামলা ও রায় দেশের আইন আদালত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছে। আগামি সময়ে যদি পলাতক আসামি বা তার প্রতিনিধি আদালতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, সেটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।


