খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ৬০ বছর পর বৈশ্বিক শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মিশন শুরু করতে যাচ্ছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে গত আসরের তৃতীয় স্থান অধিকারী ক্রোয়েশিয়া আরও একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযানের প্রত্যাশায় মাঠে নামবে।
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অধিনায়ক হ্যারি কেইন ইংলিশ শিবিরের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কেইনের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব ও বর্তমান ফর্ম দলটিকে ট্রফি জয়ের দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ইংলিশদের আক্রমণভাগ নিয়ে বেশ সতর্ক ক্রোয়েশিয়া দল। ক্রোয়াট কোচ জ্লাতকো দালিচ ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে, হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা তাদের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে। অপরদিকে ক্রোয়েশিয়ার মূল শক্তি তাদের মাঝমাঠ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদ্রিচ। আজকের ম্যাচটিতে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি নিজের ১৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক শক্তি বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে এই ম্যাচে ইংল্যান্ড স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। গাণিতিক বিশ্লেষণে হ্যারি কেইনদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৫৬ শতাংশ, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ। বাকি ২৩ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি ড্র হওয়ার। ফুটবল ইতিহাসের মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও আধিপত্য ধরে রেখেছে ব্রিটিশরা। দুই দলের আগের ১১ বারের দেখায় ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ৬টি ম্যাচে, বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার জয় ৩টিতে। বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠার স্মৃতি দল দুটির মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা যোগ করছে।
ম্যাচের কৌশলগত দিক বিবেচনায় উভয় দলেই কিছুটা ভিন্ন সমীকরণ কাজ করছে। ইংলিশ শিবিরে চোটের আঘাত কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় অনুশীলনের সময় গুরুতর চোট পেয়ে পুরো বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন রক্ষণভাগের তরুণ খেলোয়াড় টিনো লিভরামেন্টো। রক্ষণভাগ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রধান কোচ থমাস টুখেল তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন ট্রেভোহ চালোবাহকে। এই পরিবর্তন রক্ষণভাগের স্থিতিশীলতায় কেমন প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়। এর বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া শিবিরে চোটজনিত কোনো বড় সমস্যা নেই। সম্পূর্ণ সুস্থ ও পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়েই কৌশল সাজানোর সুবিধা পাচ্ছেন কোচ জ্লাতকো দালিচ, যা তাদের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটির ফলাফল ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইংল্যান্ডের গতিশীল ও তরুণ আক্রমণভাগের বনাম ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের মধ্যকার এই লড়াইটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় দলই টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।


