সারাদেশ ডেস্ক
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির খাজনা প্রদানের পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ইউএনও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এবং জেলা প্রশাসনও প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছে।
অভিযোগকারী হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (৬২) বদলগাছী উপজেলার কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, নিজের মালিকানাধীন প্রায় পাঁচ কাঠা জমির খাজনা দিতে গেলে তাকে পুরো খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৯ একর জমির খাজনা পরিশোধ করতে বলা হয়, যা তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে মাইকিং করছিলেন।
আসাদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি একটি ভ্যানের ওপর মাইক স্থাপন করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় ভূমি অফিসের কিছু ব্যক্তি তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি গালাগাল ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে তার দিকে একটি পেপারওয়েট নিক্ষেপ করা হয়, যা তার বুকে আঘাত করে। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।
অভিযোগকারী জানান, তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তার মতে, জমির খাজনা প্রদানের বর্তমান পদ্ধতি সাধারণ মানুষের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করছে এবং এ বিষয়ে নীতিমালার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বদলগাছী উপজেলার ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়েছিল শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, যাতে জানা যায় তিনি কার প্ররোচনায় মাইকিং করছিলেন। তার দাবি, কোনো ধরনের মারধর বা আঘাতের ঘটনা ঘটেনি এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ভূমি সংক্রান্ত যে আইন নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা স্থানীয় প্রশাসন প্রণয়ন করেনি।
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং কার্যালয়ে ডেকে এনে একজন নাগরিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বিষয়টি আরও যাচাই করার পরামর্শ দেন।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একটি ভ্যানের ওপর বসে মাইক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বক্তব্যে দাবি করেন, একটি খতিয়ানের অধীনে থাকা একাধিক দাগের জমির মধ্যে আংশিক মালিকানার ক্ষেত্রেও পুরো খতিয়ানের খাজনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাইকিংয়ের মাধ্যমে খাজনা পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। পরে কিছু ব্যক্তি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন বলে শোনা গেছে।
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় খতিয়ান ও দাগভিত্তিক জমির হিসাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি খতিয়ানের অধীনে একাধিক দাগ থাকতে পারে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি সেই দাগগুলোর আংশিক মালিক হতে পারেন। খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনার দাবি রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


