লেবাননে ইসরাইলি হামলা বৃদ্ধি, সংঘাতের ন্যূনতম সমাধান বিলম্বিত হচ্ছে

লেবাননে ইসরাইলি হামলা বৃদ্ধি, সংঘাতের ন্যূনতম সমাধান বিলম্বিত হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

গুতেরেসের মুখপাত্র বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “লেবাননে চলমান সামরিক তৎপরতা যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী, সমন্বিত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য বড় হুমকি। আমরা সকল পক্ষকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।”

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৮২ জন নিহত এবং ৮৯০ জন আহত হয়েছে। রাজধানী বৈরুত শহরটি যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর এবং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থান সীমিত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, কিন্তু ইসরাইল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে লেবানন এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লেবাননের হিজবুল্লাহ সংগঠন ইসরাইলের দিকে রকেট হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুদ্ধবিরতি রক্ষা সম্পর্কে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতির জন্য তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, “সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।” তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর জন্য আহ্বান জানান।

এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে “ভয়াবহ মাত্রার হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ” নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা উভয়ই নিরাপদ স্থান, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বেসামরিক জীবন রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের সংঘাতের বর্তমান মাত্রা কেবল স্থানীয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননের পরিস্থিতি তা প্রভাবিত করছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এদিকে, বৈরুতসহ উত্তরের শহরগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছেন যে যদি তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ