ফুলজোড় নদীর ওপর ৩৪ কোটি টাকার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ফুলজোড় নদীর ওপর ৩৪ কোটি টাকার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

 

সারাদেশ ডেস্ক

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ফুলজোড় নদীর ওপর ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চরনূরনগর গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, “পল্লী সড়ক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প-২” এর আওতায় ২৯০.৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়কও নির্মিত হবে, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ কাজটি পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেএ এবং এসভিএমসি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, এ সেতু নির্মিত হলে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চরনূরনগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ফুলজোড় নদী পারাপারে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়বে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি স্থায়ী সেতুর দাবি ছিল। বর্তমানে নৌকা বা অস্থায়ী ব্যবস্থা ব্যবহার করে নদী পারাপার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতুটি নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হায়াতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এ ধরনের সেতু নির্মাণ প্রকল্প স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সড়ক ও সেতু অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এলজিইডি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সেতু ও সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবাহকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার এই সেতু প্রকল্পও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ