যুবতীদের টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

যুবতীদের টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে যৌন নিপীড়ন, ভিডিও ধারণ এবং পরে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে অন্তত ১৩টি পৃথক ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম রাব্বির স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জ জেলার পুরান কামারগাঁ এলাকা। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক। সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া (ফেক) আইডি ব্যবহার করে মূলত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু করতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে নারীকণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং ধীরে ধীরে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন।

পরবর্তীতে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন কৌশলে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে তিনি আরও একাধিক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। একই কৌশলে তিনি ভুক্তভোগীদের বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ছাত্রীদেরও টার্গেট করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নারীকণ্ঠে দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ রেখে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড় এলাকার একটি নির্মীয়মাণ ভবনে তাদের নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ আরও জানায়, এসব ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন-ভিত্তিক অপরাধ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।

ডিএমপি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, প্রাথমিকভাবে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আরও অন্তত ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। তিনি প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তরুণী ও শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিতে থাকেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুয়া পরিচয় শনাক্তে আরও সতর্কতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ