তেজগাঁও বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে ৫৯ জন গ্রেফতার

তেজগাঁও বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে ৫৯ জন গ্রেফতার

অপরাধ ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন থানার নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দিনব্যাপী রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন থানাগুলোর সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগে জড়িত সন্দেহে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতারদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় চারজন, মোহাম্মদপুর থানায় ৩১ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় পাঁচজন, আদাবর থানায় পাঁচজন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১০ জন এবং হাতিরঝিল থানায় চারজন রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টহল ও অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গ্রেফতারদের পরিচয় সংক্রান্ত তালিকায় বিভিন্ন বয়স ও পেশার ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন ধরনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে বা কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে—সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিথী বেগম (২৬), মো. শাকিল (২৫), মো. রিপন (২৬), মো. নাদিম সরকার (২০), মো. ফরহাদ হোসেন (২২), মো. লুৎফর রহমান (৬৭)সহ বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তি রয়েছেন। একই সঙ্গে আরও কয়েক ডজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন থানায় পৃথকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের অংশ হিসেবেই গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫৯ জনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পৃথক মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ হ্রাসে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ