আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বিমানবাহী রণতরীসহ কয়েক হাজার সেনা এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজের বহর এ অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ নৌবহর চলতি মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই বহরে একটি বিমানবাহী রণতরী এবং সহায়ক যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, এই বহরের সঙ্গে প্রায় ছয় হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপের আরও প্রায় চার হাজার দুইশ নৌ ও মেরিন সেনা এই অঞ্চলে যুক্ত হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যাদের সঙ্গে নতুন এই বাহিনী যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত মোতায়েন অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পদক্ষেপকে কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শিগগিরই সমাপ্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যদি কূটনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও তিনি ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরসমূহে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের একটি প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বলে অভিহিত করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে তারা প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে। একই সঙ্গে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে অগ্রসর হয়, তা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে।


