বাঞ্ছারামপুরে ভেজাল তেল উৎপাদন ও নকল লেবেল ব্যবহারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, এক লাখ টাকা জরিমানা

বাঞ্ছারামপুরে ভেজাল তেল উৎপাদন ও নকল লেবেল ব্যবহারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, এক লাখ টাকা জরিমানা

আইন আদালত ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বোতলজাতকরণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে সরিষার তেল বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল তেল, নকল লেবেল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

অভিযানকালে উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামে অবস্থিত ‘এ আর এগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বোতলজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কয়েক ড্রাম তেল এবং বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত সামগ্রী জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কয়েক হাজার নকল লেবেল তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত তেল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং তা পরবর্তীতে পামওয়েল হিসেবে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বাজারে পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল। পাশাপাশি ‘মদিনা সরিষার তেল’ নাম ব্যবহার করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের লোগো নকল করে সরিষার তেল বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত মান ও উৎস সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ ও আতিকুর রহমান রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের তেল বাজারজাত করে আসছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশির সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। উক্ত ধারায় ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা, ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভোজ্য তেল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল বা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে নিম্নমানের পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো নকল করে পণ্য বাজারজাত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে ভেজাল ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ