যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র

যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইউক্রেনকে আর বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহ করবে না ওয়াশিংটন। তিনি জানান, মার্কিন করদাতাদের অর্থে কিয়েভকে অস্ত্র কিনে দেওয়া বা সরবরাহের প্রচলিত নীতি কার্যত শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপীয় দেশগুলো চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে পারে।

জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নীতির এই অবস্থান তুলে ধরেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ চাপ ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চীন সফরে গিয়ে অভিযোগ করেছেন, কিয়েভকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো নতুন সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের উদ্যোগ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ২০০ বারেরও বেশি সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে দিনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া ও অন্যান্য একাধিক অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাত থেকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা বন্দরসহ অন্তত নয়টি এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা পরিচালিত হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো এবং আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে রুশ বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত একদিনে রাশিয়ার বহু সেনা নিহত হয়েছে এবং রুশ সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, প্রায় এক হাজার ৪০০টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেমেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি এবং ধারাবাহিক হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও সামরিক সহায়তা নীতি নিয়ে বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই নির্ণায়ক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বরং একাধিক ফ্রন্টে সংঘর্ষ বিস্তৃত হওয়ায় বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ