জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তিনি উন্নত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম মালয়েশিয়াতেই পরিচালিত হবে।
বুধবার বিকেলে মির্জা আব্বাসের একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার সুস্থতা আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
মিজানুর রহমান সোহেল আরও বলেন, বর্তমানে মির্জা আব্বাস আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ আছেন। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা মত দিয়েছেন। এ কারণে তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তার পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, তার অসুস্থতার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা শুরু হয়। কয়েকদিনের চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা যায়, যা চিকিৎসকদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুস্থতার পথে ফিরে আসার ক্ষেত্রে পুনর্বাসন চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় শারীরিক জটিলতার মধ্যে থাকলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে ফিজিওথেরাপি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। এ ধরনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় পেশিশক্তি পুনরুদ্ধার, শারীরিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা মির্জা আব্বাসের অসুস্থতা তার দলীয় কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।
পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


