চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীতকরণে পিপিপি অনুমোদন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীতকরণে পিপিপি অনুমোদন

বাংলাদেশ ডেস্ক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট ফেজ-ওয়ানের আওতায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, চলমান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রুট হিসেবে বিবেচিত, যা পর্যটন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সেতুমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত পিপিপি প্রকল্পের আওতায় সড়কের একটি অংশে প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া অবশিষ্ট প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়ন বিষয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি অংশ চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। এই কারণে সড়কটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং যান চলাচল নিরাপদ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি মোট প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংযোগ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বর্তমান দুই লেনের সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ মহাসড়ক নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো সড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে একাধিকবার প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা, অর্থায়ন কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রধান আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই মহাসড়কটির চার লেন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে পর্যটন খাত সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিপিপি ভিত্তিক অংশের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট অংশের জন্য অর্থায়ন ও নকশা চূড়ান্ত হলে পুরো সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দিকে অগ্রসর হবে সরকার।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ