রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৬৮টি আসন লাভের বিপরীতে সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ১৩টি আসন পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জোটের শরিক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। তবে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা অনুযায়ী, এনসিপি আরও একটি আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, জোটের নারী আসনের প্রার্থীতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এনসিপিকে একটি আসন দেওয়া হচ্ছে এবং আনুপাতিক বণ্টনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত একটি আসন পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় সংরক্ষিত নারী আসন সাধারণ আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দল বা জোট তাদের নির্ধারিত সংখ্যার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত জোটের ১৩টি নারী আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের নারী নেত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ড ও সংগঠন পরিচালনায় যুক্ত আছেন।
প্রস্তাবিত তালিকায় মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি এবং নাজমুন্নিছা নিলুর নাম রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেরিনা সুলতানা, সিলেট অঞ্চলের মাহফুজা খানম, বগুড়া অঞ্চলের সাজেদা সামাদ এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু। দলীয় সূত্র বলছে, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলার নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ দরকষাকষি এবং সমঝোতা প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি নিয়মিত বিষয়। তবে জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত একটি আসনের দাবি বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে জোটের প্রার্থীদের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


