শাহ আমানতে ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা কাটেনি: দুই দিনে বাতিল ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

শাহ আমানতে ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা কাটেনি: দুই দিনে বাতিল ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে স্বাভাবিক ছন্দ ফেরেনি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার মধ্যরাতের মধ্যে নতুন করে ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা সাধারণ যাত্রী এবং প্রবাসীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের নির্ধারিত সূচি বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বহির্গমন (ডিপার্চার) ফ্লাইট। বেসরকারি খাতের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি আগমন (অ্যারাইভাল) ও একটি বহির্গমন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে এয়ার আরাবিয়ার শারজাহগামী দুটি আগমন ও দুটি বহির্গমন ফ্লাইট এবং সালাম এয়ারের মাস্কাট রুটের একটি আগমন ও একটি বহির্গমন ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও কিছু ফ্লাইট সচল ছিল। এই সময়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ১২টি আগমন ও ১১টি বহির্গমন ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে যাতায়াত করেছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মোট ৩২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার তথ্য পাওয়া গেছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও আকাশসীমা ব্যবহারের নিরাপত্তা ঝুঁকি, অপারেশনাল জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিবর্তিত বিমান চলাচল নীতির কারণে নিয়মিত সূচি ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এই বিমানবন্দরে শিডিউল বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শারজাহ, মাস্কাট ও জেদ্দার মতো ব্যস্ততম রুটগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তে যাত্রীদের আবাসন ও সময় নিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে ফ্লাইট পুনরায় স্বাভাবিক হওয়া মূলত এয়ারলাইনসগুলোর সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক রুটগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে যে ফ্লাইটগুলো সচল রয়েছে, সেগুলোতেও বাড়তি যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েক লাখ রেমিট্যান্স যোদ্ধা এই ফ্লাইট বাতিলের ফলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ