টাঙ্গাইলে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের উদ্বোধন: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বারোপ

টাঙ্গাইলে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের উদ্বোধন: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বারোপ

জাতীয় ডেস্ক

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নবনির্মিত একটি ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৮২ মিটার দীর্ঘ এই গার্ডার ব্রিজটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি বাসাইল উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন এক প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়কার আর্থিক সীমাবদ্ধতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থের সংকুলান না থাকা সত্ত্বেও জনগণের মৌলিক চাহিদা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে অবকাঠামোগত সংহতি বৃদ্ধি করা সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকারের চলমান বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে আহমেদ আযম খান বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে সারাদেশে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একইসাথে দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজগুলো গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হচ্ছে।

বাসাইল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী নতুন কিছু পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতে ভাটকুড়া থেকে নলুয়া পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বাসাইল বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নয়ন স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা বেগম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, ঝিনাই নদীর ওপর এই ব্রিজটি দীর্ঘদিনের জনদাবি ছিল, যা বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষ বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে।

অবকাঠামোগত এই পরিবর্তনের ফলে বাসাইলসহ সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াতের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি এতদিন পিছিয়ে ছিল, যা এখন দ্রুত গতিশীল হবে। সরকার আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোকে জাতীয় মূলধারার সাথে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ