শিক্ষা ডেস্ক
আগামী ২ জুলাই থেকে সারাদেশে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন পরীক্ষার সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের সভায় দীর্ঘ পর্যালোচনার পর জুলাইয়ের দ্বিতীয় দিন থেকে পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিস্তারিত সময়সূচি বা রুটিন প্রকাশ করবে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এই প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি চালু থাকলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নফাঁস রোধ, মেধা যাচাইয়ের সমতা রক্ষা এবং সকল বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য একই মানের মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে বোর্ডগুলোর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে একটি বৈষম্যহীন প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা।
সাধারণত এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার রেওয়াজ থাকলেও বিভিন্ন সময়সূচি সমন্বয় এবং নতুন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রস্তুতির কারণে এবার তা জুলাই মাসে নির্ধারিত হয়েছে। পরীক্ষাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি ও কেন্দ্র নির্বাচনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
সারাদেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। কোভিড-পরবর্তী শিক্ষা ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালুর ফলে দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সমান সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। এটি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শিক্ষার মানের পার্থক্য কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সরকার আশা করছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


