সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানার ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানার ব্যাখ্যা

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ না করার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, বর্তমান সংবিধানের অধীনে একবার শপথ নেওয়ার পর একই পর্ষদে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করা আইনগতভাবে সাংভিন্ন এবং অযৌক্তিক। তিনি মনে করেন, পুনরায় শপথ নেওয়া হলে তার প্রথম শপথটি অকার্যকর বা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি এক আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যদি শুরুতেই ঘোষণা করত যে এটি একটি ‘বিপ্লবী সরকার’ এবং বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করা হয়েছে, তবে নতুন শপথ নেওয়ার একটি আইনি কাঠামো তৈরি হতো। কিন্তু সরকার যেহেতু বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করেছে এবং গত দেড় বছরের কার্যক্রমের বৈধতা ওই সংবিধানের আলোকেই নির্ধারণ করেছে, তাই বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে গিয়ে পুনরায় শপথ নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি অবশিষ্ট থাকে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে। ওই অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের যে সকল বিচারপতি পরামর্শ প্রদান করেছিলেন, পরবর্তীতে তাদের পদত্যাগ বা অপসারণ এই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে। রুমিন ফারহানার দাবি, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়া প্রথম শপথকে সরাসরি নাকচ (Nullify) করে দেয়, যা তার রাজনৈতিক ও আইনগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুমিন ফারহানার এই অবস্থান সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আইনি ধারাবাহিকতা এবং শপথের বৈধতা নিয়ে নতুন তর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং সংস্কার পরিষদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিবিধ মত রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে এই সিদ্ধান্তে। এটি মূলত দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা এবং নতুন সংস্কারের প্রস্তাবনার মধ্যে যে আইনি জটিলতা বিদ্যমান, তাকেই নির্দেশ করে।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান সংবিধানের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধিদের জন্য সংস্কার পরিষদে নতুন করে শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বা যৌক্তিকতা নিয়ে আইনি মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হচ্ছে। রুমিন ফারহানার এই বর্জন সেই আইনি অস্পষ্টতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ