প্রাথমিক শিক্ষাক্রমেই যুক্ত হচ্ছে সাংস্কৃতিক চর্চা: উগ্রবাদ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ

প্রাথমিক শিক্ষাক্রমেই যুক্ত হচ্ছে সাংস্কৃতিক চর্চা: উগ্রবাদ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ

শিক্ষা ও সংস্কৃতি ডেস্ক

দেশে উগ্রবাদ ও উগ্র চিন্তা নির্মূলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক চেতনা বিকাশের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। আজ রোববার সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়।

সভার আলোচনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা গেলে সমাজে উগ্রবাদের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সংগীত, নাটক, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কনের মতো বিষয়গুলোকে পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত চেতনা ও সহনশীলতা তৈরির শক্তিশালী হাতিয়ার।

প্রাথমিক স্তরকে জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পাঠ্যক্রমে এই পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দক্ষ প্রশিক্ষক দল নিয়মিতভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মনোজগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং তারা দেশীয় ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হবে।

সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, একটি সুস্থ ও সৃজনশীল প্রজন্ম গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটাতে দুই মন্ত্রণালয় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রমগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব থেকেই যদি শিশুরা শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়, তবে তাদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিশোর ও তরুণদের বিপথগামিতা রুখতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের এই সংস্কারের ফলে গ্রাম ও শহরের সব স্তরের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ পাবে, যা জাতীয় পর্যায়ে মেধা বিকাশে সহায়ক হবে।

যৌথ এই সভায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে একটি বিশেষ তদারকি সেল গঠনের বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ