জাতীয় ডেস্ক
দেশের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্বমানের আদলে রূপান্তর এবং উদ্ভাবনী মেধাসম্পদ সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার মান বৃদ্ধি ও উদ্ভাবকদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট’।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্য দেশের নামে নিবন্ধিত না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করা জরুরি। উদ্ভাবনী সংস্কৃতি প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা বা ‘ব্রেন ড্রেইন’ রোধে সরকারের সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের দেশে ধরে রাখতে ‘রিভার্স ব্রেন’ পলিসি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে মেধাবীদের ফেরার পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করতে হবে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ) পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যহীন কোর্স চালু করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে কোনো ভূমিকা রাখছে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘মার্কেট ডিপেন্ডেন্ট’ বা বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ অর্জনে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
উচ্চশিক্ষায় সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর জোর দিয়ে ড. মিলন বলেন, এইচএসসি পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় অপচয় তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অন্তরায়। এই সময় বাঁচাতে ইউজিসি-কে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা করে একটি ‘ইউনিফর্ম’ বা অভিন্ন ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে কেবল বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে না দেখে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রসারে বেসরকারি খাতের অবদান বজায় রাখতে ইউজিসি-কে নিবিড় তদারকি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার রোধে কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান এবং মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ উপস্থিত ছিলেন।


