৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা জাহাজ

৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা জাহাজ

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) বোঝাই চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিং তং ৭৯৯’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বিশাল এই জ্বালানি ট্যাংকারটি বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। দেশের ক্রমবর্ধমান আকাশপথের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত এই জ্বালানি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘শিং তং ৭৯৯’ জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮২ দশমিক ৫ মিটার। এর ড্রাফট বা পানির নিচের গভীরতা বেশি হওয়ায় এটি সরাসরি বন্দরের প্রধান জেটিতে ভিড়তে সক্ষম হয়নি। বর্তমানে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজটি থেকে ছোট লাইটার জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তেল খালাসের মাধ্যমে ওজন ও ড্রাফট কমে এলে নিয়ম অনুযায়ী জাহাজটিকে মূল জেটিতে নিয়ে আসা হবে।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, ড্রাফটজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে গভীর সমুদ্রে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি খালাস হওয়ার পর জাহাজটির গভীরতা বন্দরের চ্যানেলে প্রবেশের অনুকূলে আসবে, তখন একে জেটিতে ভিড়ানো হবে। এতে খালাস প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর ও সহজ হবে।

জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের আসা-যাওয়া বেড়েছে। ‘শিং তং ৭৯৯’ আসার মাত্র কয়েকদিন আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল (জেট এ-১) নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামক একটি ট্যাংকার বন্দরে এসেছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় অংকের জেট ফুয়েল আসায় দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।

জেট ফুয়েলের পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানি তেলের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার ভোরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’ বন্দরে ভিড়েছে। এর একদিন আগে শুক্রবার তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, রমজান পরবর্তী শিল্পোৎপাদন ও পরিবহন খাতের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি আমদানির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ উপায়ে জ্বালানি খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি খালাসের প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বহির্নোঙরে লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নিয়মিত এই জ্বালানি তেলের আগমন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুম এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত জরুরি। আমদানিকৃত এই জ্বালানি দ্রুত খালাস করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) স্টোরেজ ট্যাংকগুলোতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ