সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

আইন ও আদালত ডেস্ক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং বাদীপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও টাস্কফোর্সকে দুই দফায় মোট এক বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আজ পুনরায় সময় বাড়ানোর আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্থা পরিবর্তন করেছে।

শুরুতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করলেও চার দিন পর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। ডিবি তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার দায়িত্ব পায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। প্রায় ১২ বছরেরও বেশি সময় র‍্যাব তদন্ত পরিচালনা করলেও কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হয়নি। এরপর গত বছর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে।

দীর্ঘ ১৪ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় দেশের সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। টাস্কফোর্সকে নতুন করে ছয় মাস সময় দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এবার অপরাধী শনাক্তকরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ও আলামত সংরক্ষণের জটিলতার কারণে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় রয়েছে। টাস্কফোর্সের আসন্ন প্রতিবেদনটি এই বিচারিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ