আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তান সফররত বিশেষ দূতদের কার্যক্রম বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের আলোচনার প্রাথমিক অবস্থানে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সফর বাতিল করলেও এখনই যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আলোচনার প্রেক্ষাপট ফলপ্রসূ না হওয়ায় তিনি এই দীর্ঘ সফর বাতিলের নির্দেশ দেন। ট্রাম্প বলেন, “অর্থহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। তবে মজার বিষয় হলো, সফর বাতিলের ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা তাদের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছি, যা আগের চেয়ে অনেক উন্নত।” যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ঠিক আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করেন। পাকিস্তান এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ থেকে ওমান হয়ে আরাঘচির রাশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত নিরসনে আলোচনা করবেন। তবে মার্কিন সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আরাঘচি বলেন, “ওয়াশিংটন কূটনীতিতে কতটা আন্তরিক তা দেখার বিষয়।”
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসবে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রকার ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ বা চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না।
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ও পাল্টাপাল্টি অবরোধ শান্তি আলোচনার স্থবিরতার সমান্তরালে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এই কৌশলগত জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা একে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।
জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্তা অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের অন্তত চারটি স্থানে চালানো এই হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, অস্ত্রবাহী যানবাহনে থাকা হিজবুল্লাহ সদস্যদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ও লেবানন সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কোনো টেকসই চুক্তিতে রূপ নিতে পারে কি না, তা এখন বৈশ্বিক রাজনীতির


