অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নতুন এই কার্ডটি বিদ্যমান ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার ইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) কার্ডের উন্নত সংস্করণ হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে বিদেশগামী শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য বিএমইটি কার্ড ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে সরকারি তথ্যভাণ্ডারে শ্রমিকের তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং বিপদে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা সহজ হয়। তবে প্রস্তাবিত প্রবাসী কার্ডে পূর্বের তথ্যের পাশাপাশি বিশেষ ব্যাংকিং ও আর্থিক সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রবাসী কার্ডে বিএমইটি কার্ডের যাবতীয় তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হবে। এর প্রধান বিশেষত্ব হবে কার্ডের সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলের সংযোগ। এর ফলে প্রবাসীরা আরও সহজে এবং বৈধ উপায়ে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি এই কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দর ও সরকারি বিভিন্ন সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর আগে বিএমইটি কার্ড চালু করা হলেও মাঠ পর্যায়ে প্রবাসীরা আশানুরূপ সুফল পাননি। অনেক ক্ষেত্রে ডাটাবেজ আপডেট না থাকা বা সমন্বিত সেবা না মেলায় কার্ডটি কেবল পরিচয়পত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাই নতুন প্রবাসী কার্ডটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে যদি বিশেষ ঋণ সুবিধা, বিমা সুবিধা এবং রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, তবেই এটি কার্যকর হবে। বিশেষ করে হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন কমিয়ে আনতে এই ডিজিটাল কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদানের স্বীকৃতি এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি চালু হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদের অন্তর্ভুক্তি আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


