জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ফেরা মানুষের চাপ সামলাতে বিশেষ রেল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট পৃথক সময়ে অনলাইনে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের আসন বুকিং করতে পারছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে, দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা এই টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রেলওয়ের প্রকাশিত সূচি থেকে জানা গেছে, ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রির এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২১ মে থেকে। প্রথম দিনে বিক্রি করা হয় ৩১ মে’র টিকিট। এরপর ২২ মে দেওয়া হয়েছে ১ জুনের টিকিট। আজ ২৩ মে ২ জুনের টিকিট বিক্রির পর আগামীকাল ২৪ মে মিলবে ৩ জুনের টিকিট। এছাড়া বিশেষ এই ব্যবস্থাপনার শেষ দিনে অর্থাৎ ২৫ মে যাত্রীরা কিনতে পারবেন ৪ জুনের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।
যাত্রী ভোগান্তি ও কালোবাজারি রোধে এবার রেলওয়ে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্তারোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ঈদযাত্রার এই বিশেষ টিকিট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ড নেওয়া হবে না। একজন সাধারণ টিকিটপ্রত্যাশী বা একাউন্টধারী সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট একবারে কিনতে পারবেন। তবে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (নিল) অপব্যবহার রুখতে নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। একের বেশি আসনের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে প্রধান যাত্রীর পাশাপাশি বাকি সহযাত্রীদের নামও টিকিট বুকিংয়ের সময় বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছর ঈদের ছুটি শেষে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করায় রেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। স্টেশনে কাউন্টারের দীর্ঘ লাইন এবং টিকিট কালোবাজারির মতো বিশৃঙ্খলা এড়াতেই মূলত শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির সময় আলাদা করায় সার্ভারের ওপর চাপ যেমন কম থাকবে, তেমনি যাত্রীরাও সহজে টিকিট কিনতে পারবেন বলে আশা করছে রেল প্রশাসন। পাশাপাশি সহযাত্রীদের নাম নিবন্ধনের নিয়মটি কালোবাজারি প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।


