নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে আনফিট যানবাহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি চালকদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়কমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারের পর্যবেক্ষণে আনফিট যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে দুর্ঘটনার প্রধান তিনটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সংকট উত্তরণে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএ-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইনি কড়াকড়ি দিয়ে সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব নয়। এর জন্য পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং পথচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ত্রুটিপূর্ণ কোনো যানবাহন যাতে সড়কে নামতে না পারে এবং দক্ষ ও লাইসেন্সধারী চালক ছাড়া অন্য কেউ যাতে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে না বসে, তা নিশ্চিত করতে মালিক সমিতিকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস, ওভারপাস ও নিরাপদ ইউটার্ন নির্মাণের মাধ্যমে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোকে নিরাপদ করার কাজ চলমান রয়েছে।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি (জিরো টলারেন্স) অবলম্বন করছে। একই সাথে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারের সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মাঝে মোট ১১৯টি চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।

এর আগে সকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আসন্ন ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা টোল আদায় প্রক্রিয়া দ্রুত করার এবং মহাসড়কে যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ