অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও জনবল সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টারের জন্য ২৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য খাতের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার এবং জনবলের অধিকার নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি শিশুকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। মাঠপর্যায়ে কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশব্যাপী মাইকিং করে, খুঁজে খুঁজে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় এ পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে সফলভাবে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারের এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিকা কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পোর্টারদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে সরকারের গৃহীত আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে পোর্টারদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল, যা সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।
এই জনবলের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও মানবিক দিকটি বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুমোদনক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পোর্টারদের বকেয়া পরিশোধের জন্য মোট ২৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্য থেকে প্রথম দফায় আজ ৬ মাসের বকেয়া বেতন হিসেবে ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টারের অনুকূলে ১২ কোটি টাকার বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছে। এই বরাদ্দের ফলে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মী এককালীন প্রায় ৯০ হাজার টাকা করে পাবেন। ইতিমধ্যে এই অর্থ উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং আগামীকাল থেকেই কর্মীরা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্ধারিত মাধ্যমে এই পেমেন্ট পেয়ে যাবেন। বকেয়া বেতনের অবশিষ্ট অর্থও সরকারের তহবিলে সংরক্ষিত রয়েছে এবং আসন্ন ঈদুল আজহার পরপরই তা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্য খাতের এই মাঠকর্মীদের কাজের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, এডহক বা চুক্তিভিত্তিক জটিলতা নিরসন করে আগামী ২০২৬ সাল থেকে এই পোর্টারদের বেতন-ভাতা নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং তাদের চাকরি নিয়মিতকরণের এই সরকারি উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত জনবলের মনোবল চাঙ্গা হবে। এটি দেশের সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল ও রোগীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


