আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের পূর্ব বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে বেকা উপত্যকার মাশঘারা গ্রামে এই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, সামরিক বাহিনী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি অবকাঠামো ও লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই বিমান হামলার ঠিক আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা আরও তীব্র করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে এই আক্রমণ শুরু করে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। গত মাসে ওয়াশিংটনের বিশেষ উদ্যোগে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।


