জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধান সড়কে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধনের পর বেবিস্ট্যান্ড মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু করে থানা মোড় ও বাজার এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব। কোরবানির পর দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ করা না হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পৌরসভার একক প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ে পুরো শহরের বর্জ্য পুরোপুরি পরিষ্কার করা বেশ দূরূহ। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্মিলিত ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের মাধ্যমে টাঙ্গাইল শহরকে একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক ঝাড়ুসহ বর্জ্য অপসারণের বিভিন্ন আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম নিয়ে শহরের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য পরিষ্কারে অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোরবানির ঈদের পর সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় পশুর বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সরকারের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ও সচেতন করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সকাল থেকেই শহরের প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণে আজকের মধ্যেই শহরের সিংহভাগ বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা, মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ শহর ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের এই ধরনের অংশগ্রহণ কোরবানির বর্জ্যজনিত পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


