ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ অনুচিত ছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ অনুচিত ছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নীতি, তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটিতে তিনি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোর মধ্যপ্রাচ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি নিজের মেয়াদের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতের সামরিক হস্তক্ষেপগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, “আপনারা ইরাকের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। সেখানে আমরা অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছি। এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমাদের শুরুতেই সেখানে যাওয়া উচিত ছিল না।” ইরাক যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, “একইভাবে আমাদের ইরানে সামরিকভাবে জড়ানোও উচিত হয়নি।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এমন কিছু অস্থিতিশীল রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে, যা বিগত ৪০ বছরেও পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি।

তবে অতীতের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করলেও নিজের প্রশাসনের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জোরালো সমর্থন করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ না থাকলে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলতো। গত বছর মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় (ফোর্ডো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান) পরিচালিত বিমান হামলার (অপারেশন মিডনাইট হ্যামার) কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যদি সেই সময়ে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে তারা এখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতো এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হতো। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এমনটি হলে আপনারা হয়তো আজ ইসরায়েলকে দেখতে পেতেন না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্বই সংকটে পড়তো।”

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি কৌশলগত দিক উন্মোচন করে দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামগ্রিক সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তু করেনি। তেহরানের সামরিক কাঠামোর ভেতরে বিভাজনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদের মূল সামরিক বাহিনীকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছি, কারণ আমরা মনে করি তাদের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী। তবে তাদের অন্য অংশগুলো চরমপন্থী এবং আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সেই অংশগুলোকেই লক্ষ্যব্স্তু করেছি।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও গভীর বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কৌশল এবং আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য নীতি কোন দিকে মোড় নেবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ