ক্রীড়া বিভাগ
ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করেছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে পিএসজির পক্ষে সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান ডেম্বেলে। পিএসজির এই গৌরবময় জয়ে দলটির ধারাবাহিক আধিপত্য যেমন বজায় থাকল, তেমনি ক্লাব ফুটবল ইতিহাসে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হলো।
ফাইনালে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করেন পিএসজির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজের হাতে নিয়ে দলের আক্রমণভাগের ছন্দ তৈরি করেন তিনি। উয়েফার টেকনিক্যাল অবজারভার প্যানেল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভিতিনহার প্রশংসা করে জানায়, পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার ম্যাচের গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে প্যারিসের দলটিকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছিলেন, যা তাদের শিরোপা জয়ে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরানো উসমান ডেম্বেলে গত মৌসুমের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী। আগের মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ৩৫টি গোল ও ১৬টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৮টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করে ক্লাবকে প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা জেতাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। চলমান মৌসুমে আগের মতো চেনা ছন্দে না থাকলেও (১৩ ম্যাচে ২টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট), ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন এই ফরাসি তারকা।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উসমান ডেম্বেলে পুরো মৌসুমের কঠিন পথপরিক্রমা এবং দলের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেন। পুরো টুর্নামেন্টে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারায় দলের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান তিনি। ম্যাচের শেষভাগে ৮০তম মিনিটে পেশির চোট বা ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়লেও, একে তিনি গুরুতর কিছু নয় বলে আশ্বস্ত করেছেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুমের শেষ ম্যাচে এমন শারীরিক ধকল স্বাভাবিক বলেই তিনি মনে করেন।
টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরার মুকুট অক্ষুণ্ণ রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। তিনি এই জয়কে ক্লাবের জন্য অত্যন্ত বিশেষ এবং ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। প্রথম শিরোপা জয়ের চেয়েও টানা দ্বিতীয়বার তা ধরে রাখা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও কঠিন কাজ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পিএসজির লক্ষ্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; ক্লাবটি আগামীতেও ইউরোপীয় ফুটবলে এই অগ্রযাত্রা এবং জয়ের ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এই জয় প্যারিসের ক্লাবটিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।


