যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে একই পরিবারের ৬ জন নিহত, পরে হামলাকারীর আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে একই পরিবারের ৬ জন নিহত, পরে হামলাকারীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের মাসকাটিন শহরে পারিবারিক কলহের জেরে এক বন্দুকধারীর গুলিতে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। আকস্মিক ও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মাসকাটিন শহরের একটি আবাসিক বাড়ি থেকে আকস্মিক গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এরপরই স্থানীয় জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল। তারা ওই বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

প্রাথমিক এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে শহরের আরও দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে একটি বাড়ি থেকে একজন এবং নিকটবর্তী একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেকজন পুরুষের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নতুন করে এই দুইজনের মরদেহ উদ্ধারের পর এই নৃশংস ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিহত ছয়জনই একে অপরের আত্মীয় এবং তারা হামলাকারীর পরিবারের সদস্য ছিলেন। পুলিশ সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীকে ৫২ বছর বয়সী রায়ান উইলস ম্যাকফারল্যান্ড হিসেবে শনাক্ত করেছে।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্ত রায়ান উইলস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে প্রতিনিয়ত অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মিসিসিপি নদীর তীরবর্তী সড়ক ধরে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি পথচারী সেতুর কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশের মুখোমুখি হওয়া এবং পালানোর কোনো পথ না পেয়ে ওই ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মাসকাটিন শহরের পুলিশ প্রধান এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের এভাবে চলে যাওয়ার বেদনা প্রকাশ করা কঠিন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের নাম ও বয়স এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলাকারী রায়ান উইলসের বিরুদ্ধে অতীতেও কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছিল। তবে ঠিক কী ধরনের পারিবারিক বিরোধ থেকে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত, তা জানতে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ। একই সাথে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই ঘটনার পর জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে আর কোনো হুমকি নেই।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা এবং সাধারণ নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সহজলভ্যতা ও তার ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে দেশটিতে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। মানবাধিকার কর্মী এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এই ধরনের ট্র্যাজেডি রোধে পারিবারিক কাউন্সিলিং এবং কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ