আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করতে চাইলে বিদেশিদের আগের তুলনায় আরও আগে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের নিবন্ধন এবং ভারতের হাসপাতালগুলোর রিপোর্টিং ব্যবস্থাতেও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন ও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংশোধিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস’-এর আওতায় এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অভিবাসন তদারকি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা এবং ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভিসাধারী বিদেশি নাগরিকদের এখন থেকে ভারতে অবস্থানের ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পূর্ববর্তী নিয়মে, যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা ভারতে পৌঁছানোর পর ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার সুযোগ পেতেন। নতুন প্রজ্ঞাপনে এই সময়সীমা এগিয়ে এনে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগের যেকোনো সময়েই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
এই নিয়মটি সেইসব বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, যাদের ভিসার সামগ্রিক মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও প্রতিবার ভারতে টানা অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন নির্ধারিত রয়েছে। এই ধরনের ভিসাধারীরা যদি একটানা কিংবা একটি ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৮০ দিনের বেশি ভারতে অবস্থান করতে চান, তবে তাদেরও নির্ধারিত ১৮০ দিন পার হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সংশোধিত নিয়মে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় ভারতে অবস্থান করার অনুমতি কেবল বিশেষ ‘জরুরি পরিস্থিতিতে’ বিবেচনা করা হবে। ফলে সাধারণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় অবস্থানের সুযোগ আগের চেয়ে অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে।
ভিসা সংক্রান্ত এই সংশোধনীর পাশাপাশি ভারতে জন্ম নেওয়া বিদেশি দম্পতির সন্তানদের ক্ষেত্রেও নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই বিদেশি নাগরিক হলে, ভারতে সন্তান জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মকর্তাকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন ভিসা কিংবা দেশত্যাগের অনুমতিপত্র (এক্সিট পারমিট) পাওয়ার জন্য এটি একটি আবশ্যিক শর্ত হিসেবে গণ্য হতো।
নতুন প্রজ্ঞাপনে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় দিয়ে বলা হয়েছে, যদি নবজাতকের বাবা বা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং তারা সন্তানের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে চান, তবে জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য জানানোর প্রয়োজন হবে না। তবে পরবর্তীতে ওই সন্তান যদি ভারতে অবস্থানকালে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে, তবে বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তার বাবা বা মাকে অবশ্যই বিষয়টি স্থানীয় নিবন্ধন কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
এ ছাড়া, নতুন এই প্রজ্ঞাপনে ভারতের চিকিৎসাসেবা খাতের ওপরও কিছু নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রোগীদের রাত্রিকালীন অবস্থান বা আবাসন সুবিধা প্রদান করে, তাদের রিপোর্টিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল দায়িত্ব বা ভূমিকায় বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও, ইমিগ্রেশন বিধিমালার আওতায় তাদের তথ্য সরবরাহ ও নিয়ম প্রতিপালনের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও হালনাগাদ করা হয়েছে।


