আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা আসছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তুরস্কের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর একাধিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে আঙ্কারা ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী, যা এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তুরস্কের আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া বা ‘ফোর্সেস গোল’-এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তুরস্ক সফর করেছিলেন। সেই সময় আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় দুই মাসের মাথায় এই ফিরতি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাসহ বহুমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


