অপরাধ ডেস্ক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আট বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব হোসেন (৫৫) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি তার দাদীর জন্য ওষুধ কিনতে পল্লী চিকিৎসক আফতাব হোসেনের বাড়িতে যায়। সে সময় স্থানীয় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আফতাব হোসেন শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে শিশুটি দ্রুত বাড়িতে ফিরে তার মায়ের কাছে বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশ করে।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হলে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ওই পল্লী চিকিৎসকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং স্থানীয় থানায় সংবাদ দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে অভিযুক্ত আফতাব হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, রাতেই শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে আরও নিশ্চিত হতে এবং উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় আফতাব হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল এক্সামিনেশন) সম্পন্ন করার জন্য তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


