মতিঝিল থেকে উত্তরার ট্রেন রাত সাড়ে ১০টা, উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে

মতিঝিল থেকে উত্তরার ট্রেন রাত সাড়ে ১০টা, উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর যানজট নিরসনে ও নগরবাসীর যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উভয় প্রান্ত থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় ২০ মিনিট করে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আজ রবিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মতিঝিল স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে সর্বশেষ ট্রেনটি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে সর্বশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যাবে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। এর আগে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশ্যে শেষ ট্রেনটি ছেড়ে যেত রাত ১০টা ১০ মিনিটে এবং উত্তরা থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে সর্বশেষ ট্রেনটি ছাড়ত রাত ৯টা ৩০ মিনিটে। ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের রাতের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই এই ২০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে বলে ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের শিফটে চলাচলের সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। এই বর্ধিত সময়সূচি চালুর আগে প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাবিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা এবং ট্রেন চলাচলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধিত সময়সূচিতে যাত্রী পরিবহন শুরু করা হলো।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের এই অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময়ে উভয় প্রান্ত থেকে মাত্র একটি করে বাড়তি ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। এর অর্থ হলো, এই সময়ে একটি ট্রেন মতিঝিলের দিকে এবং আরেকটি ট্রেন উত্তরার দিকে যাত্রা করবে। ফলে এই বর্ধিত সময়ে হেডওয়ে বা এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান থাকবে ১০ মিনিট।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেলের সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত রাজধানীর নৈশকালীন অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ী—যারা দেরিতে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরেন, তারা এখন আরও নিরাপদে ও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও রাতের গণপরিবহন সংকটের যে চেনা চিত্র ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়, তা এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এবং ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে ট্রিপ সংখ্যা আরও বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে। আপাতত নতুন এই সময়সূচির মাধ্যমে রাতের যাতায়াতে যাত্রীদের চাপ কতটা সামলানো যাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ