পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু: পর্যবেক্ষণে ধর্ষণ ও আঘাতের প্রমাণ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু: পর্যবেক্ষণে ধর্ষণ ও আঘাতের প্রমাণ

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রবিবার বেলা ১১টায় আদালতে এ রায় পড়া শুরু করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী শিশুকে হত্যার পূর্বে ধর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ঘটনার পর স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছিল। পরবর্তীতে সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন না আসায় এটি প্রমাণিত হয় যে, সোহেল রানা সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে। এছাড়া, ঘটনার পর প্রধান আসামি ও স্বামী সোহেল রানাকে আত্মগোপনে ও পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করার অপরাধে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

এর আগে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না খাতুনকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরবর্তীতে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। রায় পাঠ শুরুর পূর্বে আসামিদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুততম সময়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষী ও চিকিৎসকের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক ও আইনি সওয়াল-জবাব শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। মামলাটি শিশু অধিকার রক্ষা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ