সুদানে বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত ১১, কর্দোফানে বাড়ছে মানবিক সংকট

সুদানে বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত ১১, কর্দোফানে বাড়ছে মানবিক সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় উত্তর কর্দোফান রাজ্যের আবু জাইমা শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আবু জাইমা শহরটি বর্তমানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করেও একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়। বেসামরিক জনসংখ্যা, গ্রামীণ এলাকা এবং যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধারাবাহিক হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবজীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছে সংস্থাটি। তারা অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

একই দিনে উত্তর কর্দোফানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহর আল উবাইদের একটি জ্বালানি স্টেশনেও পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সেখানে চারজন আহত বেসামরিক নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আল উবাইদ শহরটি গত কয়েক মাস ধরে আংশিক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

সুদানের চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে ড্রোন অন্যতম প্রধান সামরিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এবং স্থানীয় সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম ও উত্তর কর্দোফানে পৃথক ড্রোন হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসেই ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের এই সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরের আল ফাশির অঞ্চলের পতনের পর থেকে কর্দোফান এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে তেল ও উর্বর কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ কর্দোফান অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষই মরিয়া হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ফলে সুদানে সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লড়াইয়ের তীব্রতায় কর্দোফান ও ব্লু নাইল অঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘ বর্তমান সুদানের এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও সামরিক ও ড্রোন হামলার এই বিস্তার সুদানের বেসামরিক জনগণের জীবনকে চরম বিপন্নতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ