রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর সরকার ও সরকারি দল বিএনপি একাকার হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দলীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা ও ভারসাম্য আনতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে দলের দীর্ঘদিনের অনুসৃত ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) এবং উপদেষ্টাদের দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় কমিটিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতারা। ফলে দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে তাঁরা আগের মতো দলীয় কার্যক্রমে সময় দিতে পারছেন না। এতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় দল ও সরকারকে আলাদা কাঠামোয় পরিচালনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য আনা অপরিহার্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারায় ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও দীর্ঘ এক দশকেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙা করতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথম ধাপে মন্ত্রী ও এমপিদের জেলা, মহানগর এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাঁদের পদে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় দলীয় পদ ছেড়েছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক মডেলকে সামনে আনছেন, যিনি দল ও সরকারকে আলাদা কাঠামোয় পরিচালনার নীতি অনুসরণ করতেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতে, একই ব্যক্তি সরকার ও দলের একাধিক শীর্ষ দায়িত্বে থাকলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। তাই আগামী কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে জেলা-মহানগর এবং অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো ঢেলে সাজানো হবে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী জানান, দল ও সরকার একাকার হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। সরকারের কাজ সরকার এবং দলের কাজ দল করবে—এটাই হওয়া উচিত।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ও দল নিজ নিজ গতিতে চলবে এবং সরকারে যাওয়ার কারণে শূন্য হওয়া দলীয় পদগুলো কাউন্সিলের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।


