ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি ও নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, গ্রেফতার ৪৭

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি ও নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, গ্রেফতার ৪৭

সারাদেশ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং বাংলাদেশের নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ এই দুটি ভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে একদিকে যেমন বিশ্ব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক অনুরোধ ও আহ্বান উপেক্ষা করে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। ওই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

তবে ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে, নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, যা জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দেয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এজাহারনামীয় ২৪ জনকে এবং পরবর্তী সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৩ জনসহ সর্বমোট ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ২৪ আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মামলার এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচির জের ধরে পরদিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। সেখানে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নোয়াখালীর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও নতুন করে সহিংসতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের আকস্মিক তৎপরতা এবং তৎপরবর্তী সহিংসতা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা কঠোর হস্তে দমন করা না হলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ