অপরাধ ডেস্ক
খুলনার দৌলতপুরে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করার ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমের (৫৫) শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে চারটি গুলি বের করা হলেও চিকিৎসকরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর আহত মুসল্লি আলম শেখ (৫৬) আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত রবিবার ফজরের নামাজের পর দৌলতপুরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ জামে মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। লোকমান হাকিম ও আলম শেখ যখন মসজিদের অভ্যন্তরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন, তখন কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন এবং প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত লোকমান হাকিম ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। তার মাথায় একটিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট চারটি গুলি লাগে। খুলনা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে পায়ে একটি গুলিবিদ্ধ হওয়া আলম শেখ খুলনায় চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
পবিত্র উপাসনালয়ের অভ্যন্তরে এমন সহিংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফায়ার আনতে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হত্যাকাণ্ড ও হামলার চেষ্টার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িতদের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র (ক্লু) পাওয়া গেছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।


