ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা চুক্তি: ইসরায়েলের খসড়া পর্যালোচনার অনুরোধ নাকচের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা চুক্তি: ইসরায়েলের খসড়া পর্যালোচনার অনুরোধ নাকচের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হতে যাওয়া বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া পর্যালোচনার জন্য তেল আবিবের পক্ষ থেকে জানানো একটি অনুরোধ ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এর পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও একটি স্বাধীন সূত্রের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার এই সমঝোতা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের পর এই চুক্তিকে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে ইসরায়েলের এই পর্যালোচনার আগ্রহ এবং ওয়াশিংটনের কথিত অস্বীকৃতি দুই মিত্রদেশের মধ্যকার কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেল আবিব আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটির খসড়া দেখার অনুরোধ জানিয়েছিল, যা মার্কিন প্রশাসন নাকচ করে দেয়। গণমাধ্যমটি জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন থাকলেও ইসরায়েলকে এর বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

অবশ্য এই দাবির বিপরীতে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মার্কিন আলোচকদের কাছে এই ধরনের কোনো প্রস্তাব বা অনুরোধ পাঠানোই হয়নি।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটন সার্বক্ষণিক এবং নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। কোনো তথ্য বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গোপন রাখার অবকাশ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শব্দ ও ধারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তিটির মূল নথি বা বিবরণ কবে নাগাদ সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, খসড়া সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি প্রধান ধারা রয়েছে।

প্রকাশিত বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ১৪টি ধারার মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি রাষ্ট্রীয় তহবিল অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান পুনর্গঠনে মার্কিন সহায়তার একটি রূপরেখা এই চুক্তিতে স্থান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তি সইয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে সামগ্রিক শর্তাবলি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথিপত্র প্রকাশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ