হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজারেরও বেশি হাজি, মারা গেছেন ৫২ জন

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজারেরও বেশি হাজি, মারা গেছেন ৫২ জন

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শৃঙ্খলার সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৪২টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৫৭ হাজার ৬৯৯ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেছিলেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ব্যবস্থাপনায় ৭৩ thousand ৯৩৫ জন হজযাত্রী ছিলেন। দেশে ফিরে আসা হাজিদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির অধীনে ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৩৮০ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে বিমানসংস্থাগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। জাতীয় এই পতাকাবাহী সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৭০টি বিশেষ ও নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৫৭২ জন হাজিকে স্বদেশে ফিরিয়ে এনেছে। অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইনস ৫১টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৮ হাজার ৩৮০ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের শিডিউল ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪ হাজার ৭১৬ জন হাজি। গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ৩০ মে থেকে হাজিদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এদিকে আনন্দঘন এই প্রত্যাবর্তনের আবহের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে বেশ কিছু পরিবারে। হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবের বিভিন্ন পবিত্র স্থানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পবিত্র মক্কা নগরীতে, যেখানে ৩৭ জন হাজি মারা গেছেন। এ ছাড়া মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুবরণ করেছেন। সৌদি আরবের নির্ধারিত প্রোটোকল ও ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী মৃত হাজিদের মক্কা ও মদিনার স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় এবং পরবর্তী সময়ে হাজিদের সার্বিক কল্যাণে সৌদি আরবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৪১০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (অটোমেটেড প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে, যা হাজিদের শারীরিক অসুস্থতা ও ক্লান্তি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে হাজিদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার, আবাসন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান ও পথনির্দেশনাসহ মোট ২৮ হাজার ১১৩টি বিভিন্ন ধরনের জরুরি ও প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করা হয়েছে।

হজ অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি হজযাত্রীদেরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানসংস্থাগুলো এবং ঢাকাস্থ আশকোনা হজ অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফিরতি যাত্রীদের বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও লাগেজ হ্যান্ডলিং সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ বুথ ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ