রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই কূটনৈতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সুইস রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান আলবের্তো জিওভানেত্তি এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল, ইকোনমিক অ্যান্ড প্রেস অফিসার খালেদ চৌধুরী।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সময় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার, বিরোধী দল এবং সুশীল বা নাগরিক সমাজ—সবারই ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। একই সাথে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের চলমান বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে সুইস রাষ্ট্রদূতের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি (গ্রিন এনার্জি) খাতের উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে সুইজারল্যান্ডকে আরও অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো স্থান পায়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর। বৈঠকটি দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


