জাতীয় ডেস্ক
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় চার দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে তিনি অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কার্যকর অর্থায়ন এবং সম্মিলিত বৈশ্বিক অঙ্গীকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) আরও কার্যকর করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য করার তাগিদ দেন তিনি। কার্বন নিঃসরণ প্রশমনের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অভিযোজন (অ্যাডাপটেশন) প্রক্রিয়াকে সমভাবে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।
এর আগে সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। এ সময় দুই নেতার মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, চীনের ডালিয়ান শহরে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ বা গ্রীষ্মকালীন দাভোস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ (ইনোভেশন অ্যাট স্কেল) প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও এর অর্থনৈতিক সুফলের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনা এবারের সম্মেলনের অন্যতম মূল এজেন্ডা। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের ১,৭০০-এর অধিক সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন।


