সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ

সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনা সদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকের শুরুতেই সেনাবাহিনী প্রধান এবং রাষ্ট্রদূত পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

বৈঠকে মূলত দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘদিনের গৌরবময় অবদান এবং কোরিয়ান সেনাবাহিনীর উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নত দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ নির্মাণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ফলে দেশটির সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি কৌশলগতভাবে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রতিনিধিদলের বৈঠকটি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। ঐতিহাসিক এই সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও গভীর ও কার্যকর করতে উভয় দেশের সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কেও একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ