আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব হান সেওং-সুক। গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দেশটির জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এক ভোটাভুটির মাধ্যমে তার এই নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং-এর প্রশাসনের অধীনে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হান সেওং-সুক দক্ষিণ কোরিয়ার করপোরেট ও প্রযুক্তি খাতে একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং দক্ষ প্রশাসক। তিনি দেশটির অন্যতম শীর্ষ ও বৃহত্তম ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নাভের’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। করপোরেট খাতে তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ও প্রশংসিত।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং-এর মন্ত্রিসভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্টার্টআপ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই পদে থাকাকালীন তিনি দেশের সামগ্রিক শিল্পখাতের কাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থানীয় শিল্প পুনর্গঠনে তার গৃহীত নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার এই সময়ে হান সেওং-সুকের মতো একজন প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশেষজ্ঞকে সরকারের শীর্ষ পদে নিয়ে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে তাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ করপোরেট অভিজ্ঞতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈশ্বিক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পনীতিকে আরও বেশি গতিশীল ও আধুনিক করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সাথে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার কারণে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সাথে সরকারের নীতিগত দূরত্ব আরও হ্রাস পাবে। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে এখন একই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার মতো দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সংসদের এই অনুমোদনের পর আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যভার গ্রহণ করবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


