অপরাধ ও অপরাধী ডেস্ক
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারীকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দাউদকান্দি মডেল থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে তা গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরপরই থানার প্রধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি মডেল থানার দুই উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পর তা আইনগত প্রক্রিয়ায় না এনে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার একটি অভিযোগ ওঠে। গত সোমবার সন্ধ্যায় এই তথ্যটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পুলিশের মতো একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অনিয়ম ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে থানার চেইন অব কমান্ড বা প্রশাসনিক তদারকির ব্যর্থতার দায়ে ওসি আবদুল বারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, কোনো থানার আওতাধীন এলাকায় কর্মরত অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে থানার শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এতে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকে না এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হয়। মাদক বিক্রির এই ঘটনায় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না বা অভিযুক্ত দুই উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশনা স্পষ্ট করা হবে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রত্যাহারের আদেশ প্রসঙ্গে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী তাঁর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ওই ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করেই জেলা পুলিশ প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে এই অন্যায্য প্রত্যাহারের আদেশ জারি করেছে।
ওসি আবদুল বারী আরও দাবি করেন, দাউদকান্দি মডেল থানায় ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ বা তা বিক্রির মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বিভাগীয় তদন্তে যদি এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছেন। তবে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেবল অপবাদের ওপর ভিত্তি করে কর্মস্থল ত্যাগ করাকে তিনি অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ও প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে তিনি ইতিমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বিভাগীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মাদকের বিষয়ে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে এই অভিযোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মাদক আত্মসাৎ বা বিক্রির ঘটনাটি যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেবল বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, বরং দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।


