অপরাধ ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জ সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর থানার নতুনগাঁও এলাকায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি দোকানের সামনের সড়ক থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার আবুল কাওসারের ছেলে মো. কামরুল হাসান রবিন (৩৩) এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল গ্রামের মো. জুলহাসের ছেলে মো. শান্ত ইসলাম (২৮)। গ্রেফতারকৃত শান্ত ইসলাম বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া (৪৭ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় বসবাস করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাতে নতুনগাঁও এলাকার মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে নামে। অভিযান পরিচালনাকালে স্থানীয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে শামীম মিয়ার চা-পুরির দোকানের সামনে পাকা সড়কে দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তাদের তল্লাশি করা হলে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত কামরুল হাসান রবিনের হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে আকাশি রঙের পলিথিনে মোড়ানো ১ কেজি ওজনের ৩টি গাঁজার পোটলা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, শান্ত ইসলামের হাতে থাকা অপর একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে একইভাবে মোড়ানো ১ কেজি ওজনের ২টি গাঁজার পোটলা উদ্ধার করা হয়। দুইজনের কাছ থেকে জব্দকৃত গাঁজার মোট পরিমাণ পাঁচ কেজি, যার বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত ও নদীপথ ব্যবহার করে মাঝেমধ্যেই মাদকদ্রব্যের চালান জেলায় প্রবেশ করে। ঢাকার সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এই অঞ্চলটিকে মাদক ব্যবসায়ীরা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালায়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ধরনের অভিযান মাদক চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক কারবারি। তারা এই মাদকের চালানটি বিক্রির উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরের ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদকের উৎস এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


